প্রকাশকালঃ ১৯ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪৭ সময়

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের অবদান দৃশ্যমান হলেও কাঠামোগত নানা প্রতিবন্ধকতা এখনও বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। নারীবান্ধব রাষ্ট্র ও সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে চিন্তার দূরত্ব কমিয়ে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ‘নারী আন্দোলন অগ্রসরমানতার অন্বেষায় সংলাপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
স্বাগত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে নারী আন্দোলনের ধারা ও চ্যালেঞ্জও বদলে যাচ্ছে। নারীর অগ্রসরমানতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রজন্মের নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।
আলোচনায় ভয়েজ অ্যান্ড ভিউজের জান্নাতুল ফেরদৌস আইভী বলেন, পরিবার ও সমাজে নারীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া প্রকৃত সমতা অর্জন সম্ভব নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে নারী আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পূর্বসূরিদের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের ভাবনাকে একত্র করেই শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উম্মে ফাতেমাতুজ যোহরা। এছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন আফরা আনতারা ও মিফতাহুল জান্নাত জাইমা। কবিতা আবৃত্তি করেন নুসাইবা আহমেদ।
বাংলাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং বিচারহীনতার প্রতিবাদে ৮৫ জন ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করেছেন। সোমবার অগ্রযাত্রা নারী ফোরাম-এর উদ্যোগে প্রকাশিত এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংহতি প্রকাশকারীদের মধ্যে রয়েছেন খুশি কবীর, আনু মুহাম্মদ, ড. স্বপন আদনান, আলতাফ পারভেজ, শরীফ জামিল, ব্যারিস্টার ফারাহ খান ও শেখ রোকনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক, গবেষক ও অধিকারকর্মীরা।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, পারিবারিক সহিংসতা এবং অনলাইন-অফলাইন হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন থেকে শুরু করে ঘরোয়া পরিবেশেও নারীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিচারহীনতা ও নারীবিদ্বেষী মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিবৃতিতে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতাকে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গভীর সংকট হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালার বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।