প্রকাশকালঃ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১১:৫০ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আর্টিকেল নাইন্টিনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada)-এর অর্থায়নে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC)-এর উদ্যোগে নয়জন নারী সাংবাদিকের মাঝে উন্নতমানের ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগে নারী সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশায় দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকট, বেতন বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করা নারী সাংবাদিকদের জন্য এই সহায়তাকে নতুন করে আশার আলো হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ১ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের নয়জন নারী সাংবাদিকের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাকের খুলনা ব্যুরো প্রধান এনামুল হক। তিনি বলেন, “আমার দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে এমন উদ্যোগ আগে দেখিনি। সাংবাদিকরা যদি ন্যূনতম সহযোগিতাও পান, তাহলে তারা দেশ ও জনগণের কল্যাণে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ কমে গেছে। এই উদ্যোগ তাদের পেশাগতভাবে আরও শক্তিশালী করবে।”
টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু বলেন, আর্টিকেল নাইন্টিন দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে। তাদের সহযোগিতায় গঠিত বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির নারী সদস্যরা আজ এই সহায়তার সুফল পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “কাজের পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেক নারী সাংবাদিক পেশা ছাড়তে বাধ্য হন। এই উদ্যোগ শুধু নারী নয়, পুরুষ সাংবাদিকদের মাঝেও আশার সঞ্চার করেছে।”
খুলনার সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার বলেন, “শুধু খুলনা নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এটি একটি দৃষ্টান্ত। নারী সাংবাদিকরা সঠিক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না পাওয়ায় পেশা থেকে সরে যান। এই ল্যাপটপ বিতরণ নারী সাংবাদিকতায় নতুন গতি আনবে।”
ল্যাপটপ পেয়ে দি অবজারভারের রিপোর্টার ইসরাত জাহান বলেন, “পুরুষশাসিত সমাজে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে দীর্ঘদিন বৈষম্য ও অপমানের শিকার হয়েছি। আজ এই সহায়তা আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি আমার সাংবাদিক জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।”
ল্যাপটপপ্রাপ্ত সাংবাদিক তন্দ্রা দাসের পিতা সাধন কুমার দাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি কোনো দিন ভাবিনি, দিনমজুর পরিবারের আমার মেয়ে সাংবাদিকতা করে এভাবে সম্মান ও স্বীকৃতি পাবে। আজ গর্বে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না।”
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সভাপতি কৌশিক দে বলেন, “সাংবাদিকতা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ পেশা, আর নারী হলে প্রতিবন্ধকতা আরও বেশি। এ ধরনের সহযোগিতা তাদের কাজে উৎসাহ দেবে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংও জরুরি।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান করির বলেন, “আর্টিকেল নাইন্টিন আমাদের পাশে দাঁড়াবে—এটা আমরা কল্পনাও করিনি। আজ নারী ও পুরুষ সাংবাদিকদের বলতে পারি, ভয় নেই, সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি।”