প্রকাশকালঃ ১৯ মে ২০২৬, দুপুর ১:৪৮ সময়

কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দুই থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মোঃ শফিউল আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। তাদের নেতৃত্বে দুই থানায় দিন-রাত চলছে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের ফলে উপজেলায় মাদক উদ্ধার, মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারিদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছে। আবার অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশলে কারবার চালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে তা ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মুরাদনগরে মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছিল। মাদকের বিস্তারে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছিল এবং অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছিল। তবে নতুন দুই ওসির কঠোর পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ মুরাদনগর থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত থানায় ১৩টি মাদক মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া এক কুখ্যাত ডাকাতকে আটকের পর মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কে ডাকাতির ঘটনা কমেছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
অপরদিকে, গত ২ মে ২০২৬ বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন মোঃ শফিউল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার নেতৃত্বে ১১টি মাদক মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনও। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, একসময় সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের উৎপাতের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলেও আতঙ্ক ছিল। তবে বর্তমানে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ও অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
পুলিশের দাবি, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের কারণে দুই থানার ওসি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে তারা মাদক দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোথাও অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মোঃ শফিউল আলম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
দুই থানার ওসি জানান, মুরাদনগর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের মাদকের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তারা।